ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে ১০ হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা করেছেন অ্যাডভোকেট সালমা ইসলাম এমপি। মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার না করা এবং ক্ষমা না চাওয়ায় মঙ্গলবার ঢাকার যুগ্ম জেলা প্রথম আদালতে এ মামলা করা হয় (মামলা নং ১২৫/২০১৮)।

প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার (এসকে সিনহা) বিরুদ্ধে করা মামলায় অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ করেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা।

এ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ক্ষমা চাইতে ৩ অক্টোবর ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জিয়াউল হক উকিল নোটিশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ক্ষমা না চাওয়ায় মামলা করেন সালমা ইসলাম এমপি।

এ মিথ্যা ও মানহানিকর অভিযোগ প্রত্যাহার এবং ক্ষমা প্রার্থনার অনুরোধ জানিয়ে নাজমুল হুদার প্রতি উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলেন সালমা ইসলাম। কিন্তু ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নিশ্চুপ থাকায় এবং বিকল্প কোনো উপায় না পেয়ে মানহানিকর মামলা করতে তিনি বাধ্য হয়েছেন।।

ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার বিরুদ্ধে সালমা ইসলামের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, তিনি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী। সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নাজমুল হুদা বেশ কয়েকবার সংসদ সদস্যও নির্বাচিত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান।

এ বছর ২৭ সেপ্টেম্বর এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহারে সালমা ইসলাম সম্পর্কে নাজমুল হুদার অভিযোগ সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক, অনাকাঙ্ক্ষিত, অনাবশ্যক ও অবাঞ্ছিত। এর মাধ্যমে নাজমুল হুদা সমাজ ও দেশ-বিদেশে সালমা ইসলামের মানমর্যাদা এবং সুনামের ক্ষতি করেছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-১ আসনের ভোটারদের সম্মানও হানি করা হয়েছে।

সালমা ইসলামের মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, ২৭.০৯.২০১৮ তারিখে ঢাকার শাহবাগ থানায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার বিরুদ্ধে মামলা করেন নাজমুল হুদা। মামলা নং ১৯/৫২৩।

এতে বলা হয়, এসকে সিনহার বিরুদ্ধে করা মামলার এজাহার খুবই চাতুর্যপূর্ণ ও পূর্বপরিকল্পিত। এ ছাড়া নাজমুল হুদা এজাহারে অন্যায়ভাবে সালমা ইসলামের নাম জুড়ে দিয়েছেন। যদিও এগুলোর কোনো প্রয়োজন ছিল না।

সালমা ইসলামের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, নাজমুল হুদার কুরুচি ও কুৎসাপূর্ণ কার্যকলাপের শিকার ও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন সালমা ইসলাম। মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে এবং প্রশাসনিক যন্ত্র ও ক্ষমতা ব্যবহার করে সালমা ইসলামের মানহানি করা হয়েছে।

ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারের মাধ্যমে সমাজের সাধারণ মানুষের কাছে তার সুনাম ও ব্যক্তিগত মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে।

এএ/টিবি/১৮/

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন