প্রজন্মের মহড়ায় সুশৃঙ্খল সড়কের ছবি

প্রথম দেখায় হয়ত কেউ এ দৃশ্য বাংলাদেশের বলে বিশ্বাস করবেনা। অকপটে বলে দেবেন ইউরোপ কিংবা আমেরিকার কোন দেশের ছবি। কিন্তু না এটি আসলেই বাংলাদেশেরই দৃশ্য।

গতকাল বুধবার (৮ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিতে মেট্রো শপিং সেন্টারের সামনের ফুট ওভারব্রীজ থেকে ছবিগুলো ধারন করেন “বি করিম” নামে পরিচিত একজন আলোকচিত্রী।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে ১০০ মোটর সাইকেল যেগুলোর প্রত্যেকটিতে দুইজন করে মোট ২০০ জন আরোহী যাদের প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট। কয়েকদিন আগেও ঢাকায় রাস্তায় এমন দৃশ্য কল্পনা করেনি কেউ। কিন্তু আজ তা বাস্তবে রুপ নিয়েছে। এর জন্য যদি কেউ প্রশংসার দাবিদার হয় তবে তার সিংহ ভাগই যাবে শিক্ষার্থীদের দখলে।

যেই শিক্ষার্থীরা তাদের দুই সহপাঠীকে হারিয়ে নিরাপদ সড়কের দাবিতে মাঠে নেমেছিল। যারা এক সপ্তাহ বা তার কম সময়ের জন্য হলেও মানুষকে নিয়ম মানতে শিখিয়েছিল। সড়কে শৃঙ্খলা আনতে পেরেছিল। যারা বাংলাদেশে প্রথমবারের মত জরুরী প্রয়োজনে রাস্তায় ইমার্জেন্সি লেন বানিয়ে দেখিয়েছিল।

হয়ত সেই এক সপ্তাহ বা তার কিছু বেশি সময় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ব্যঘাত ঘটেছে। রাস্তাঘাটে চলাচলে অনেকেই ভোগান্তীর শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা খুব ভালো করে বুঝতে পেরেছে যে আমরা চাইলেই সড়কে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনতে পারি। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে চেষ্টা করলেই নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। নিজে ট্রাফিক আইন মেনে চলে এবং আশেপাশের মানুষকে আইন মানতে উদ্বুদ্ধ করে আমরা নিজেরাই সড়কে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারি।

এই আন্দোলন থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা আমাদের জন্য স্মরণীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে সাড়া জীবন। এই ছবিটির মত দৃশ্য যেন সারা দেশের প্রতিটি রাস্তায় প্রতিটি সময় দেখা যায়। নিরাপদ সড়কের শুরুটা হোকনা আমাদের নিজেদের হাতেই, নিজেদের কাজেই।

এফএম/এমএম/টিবি/১৮

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন