নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, সৌদি আরবের নতুন ভাষ্য হবে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান খাশোগিকে জিজ্ঞাসাবাদ বা আটক করে দেশে নিয়ে আসার বিষয়টি অনুমোদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তা করতে ব্যর্থ হন। একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভুলবশত তাকে হত্যা করেন। পরে ওই কর্মকর্তা নিজেকে বাঁচানোর জন্য বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় খাশোগির মৃত্যু হয়ঃ সৌদি

সিএনএনের খবরে দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়, জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় খাসোগির মৃত্যু হয়েছে—এমন প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে সৌদি আরব। তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে অপহরণ করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি বলেও জানাবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সিএনএনের খবরে একটি সূত্র বলছে, প্রতিবেদনটি এখনো তৈরির কাজ চলছে। এটি বদলও হতে পারে। আরেকটি সূত্র বলছে, এই ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা হবে।

হত্যার সময় রেকর্ডার অন ছিল ‘খাসোগির’ ঘড়িতে

ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলেছে, সৌদি আরব বলবে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুর্বৃত্তরা ভুলবশত খাসোগিকে হত্যা করেছে। তবে সৌদি আরবের বিবৃতি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এএফপির খবরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিকে ভয়ংকর বলে অভিহিত করেছেন। গত সোমবার অ্যালাবামা সফরকালে তিনি বলেন, ‘খাসোগি নিখোঁজ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশ্লিষ্টতার কথা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সৌদি আরব। শোনা গেছে, দুর্বৃত্তরা খাসোগিকে হত্যা করতে পারে। কে বলতে পারে কী হয়েছে?’ তিনি আরও বলেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে সৌদি আরবে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প জানান, ‘পম্পেও তুরস্কে যেতেও পারেন। নাও পারেন। পম্পেও সবার সঙ্গে কথা বলবেন। কী ঘটেছিল তা আমরা খুঁজে বের করব।’

২ অক্টোবর তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বিয়ের কাগজপত্র নিতে গিয়ে সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ খাসোগি। তিনি সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের বিভিন্ন নীতির সমালোচক ছিলেন। গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনে ছিলেন।

তুরস্কের কর্মকর্তারা বলছেন, খাসোগিকে হত্যা করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সৌদি আরব।

খাসোগির নিখোঁজ হওয়ার রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য পশ্চিমা মিত্রদেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে রেখেছে। তারা চায় যুক্তরাষ্ট্র খাসোগির ব্যাপারে সৌদি আরবকে চাপে ফেলুক

এএ/টিবি/১৮

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন