সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের ই-মেইল কেলেঙ্কারি তুরুপের তাস হয়েছিল রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য। রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের পর তদন্তের মুখোমুখি হতে হয় হিলারি ক্লিনটনকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রথম মেয়াদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালে হিলারি ক্লিনটন রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করেন। এ ছাড়া কয়েক হাজার রাষ্ট্রীয় ই–মেইল মুছে ফেলেন তিনি। এই কেলেঙ্কারি ট্রাম্প শিবিরকে স্বস্তি এনে দেয়। ট্রাম্প শিবির দাবি করে, বিষয়টি ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরও এই অভিযোগ থেকে হিলারিকে মুক্তি দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এবার ঘরের মানুষই যখন একই কাজ করলেন, কী বলবেন ট্রাম্প?

মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, গত বছর হোয়াইট হাউসের দাপ্তরিক কাজে ব্যক্তিগত ই–মেইল ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প–কন্যা ইভাঙ্কা ট্রাম্প। তিনি হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের উপদেষ্টা পদে নিযুক্ত আছেন। তবে ইভাঙ্কার আইনজীবীরা জানান, এ বিষয়ে অবিহিত হওয়ার আগে ব্যক্তিগত ই–মেইল ব্যবহার করেছেন ইভাঙ্কা। তিনি এ বিষয়ে জানার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার বন্ধ করেন।

আমেরিকান ওভারসাইট গ্রুপের অস্টিন এভারস বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের পরিবারের লোকজন আইনের ঊর্ধ্বে নন।’ গত বছর ইভাঙ্কা ট্রাম্পের এই কাজের বিষয়ে প্রথম খোঁজ পায় আমেরিকান ওভারসাইট।

এভারস বলেন, ‘এটা খুবই গুরুতর। কংগ্রেসের শিগগিরই তদন্ত করা উচিত। ইভাঙ্কা ট্রাম্প কি আইন অনুসারে প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ব্যবস্থা রেখে তাঁর ই-মেইল চালু রেখেছিলেন?’

২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে প্রচারকাজ চলার সময় ফাঁস হয় হিলারি ক্লিনটনের ই–মেইল পাঠানোর ঘটনা। এরপর ট্রাম্প বারবারই ‘অবৈধ কাজ করেছেন’ বলে অভিযোগের তির ছুড়েছেন হিলারির দিকে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন—এমনটাও বলেছেন তিনি। ট্রাম্প এও অভিযোগ করেন, হিলারি ক্লিনটন ৩০ হাজার রাষ্ট্রীয় ই–মেইল মুছে ফেলেছেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের সরকারি কাজে ব্যক্তিগত ই-মেইলের ব্যবহারের বিষয়টি পুরোপুরি অবৈধ নয়। মূলত, প্রেসিডেনশিয়াল রেকর্ড আইন ও ফেডারেল রেকর্ড আইন অনুযায়ী এসব ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তারা ওই মেইল অফিশিয়াল করেসপনডেন্টকে ফরওয়ার্ড করে দিতে পারেন, যা ২০ দিনের জন্য সংরক্ষণ করা হয়। যদি এটি নির্ভরযোগ্যভাবে করা না হয়, তবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার কারণে সরকারি তথ্যগুলো সাংবাদিক, আইনপ্রণেতা বা অন্য কারও কাছে চলে যাওয়ার ভয় থাকে। এবার দেখার বিষয়, ইভাঙ্কা কতটুকু নিরাপত্তার ব্যবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করেছেন।

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন