দীর্ঘ সারিতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট প্রত্যাশীরা

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘরমুখো মানুষের ‘যুদ্ধ’ শুরু হয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের টিকিট পেতে গভীর রাত থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের। প্রতিটি লাইনের শুরু থাকলেও শেষ কোথায় তার কোনো হদিস মিলছে না। কোথাও তিলপরিমাণ জায়গা ফাঁকা নেই দাঁড়ানোর মতো।

অগ্রিম টিকিট বিক্রির দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সিলেটের টিকিট পেতে বুধবার সন্ধ্যায় এসে কমলাপুর স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন বেসরকারি চাকরিজীবী মনছুর আহমদ। এরপর সারারাত নির্ঘুম অবস্থায় কাউন্টারের সামনে বসেই কেটেছে তার। রাত ১২টায় তিনি যখন লাইনে দাঁড়িয়েছেন তখনও তার সামনে আছেন আরও অন্তত ২০ জন। শুধু মনজুর আহমদ নয়, তার মতো এমন শতশত টিকিট প্রত্যাশী সারারাত অপেক্ষা করেছেন কমলাপুরে। সন্ধ্যার পর থেকে রাত যত বেড়েছে স্টেশনের কাউন্টারগুলোর সামনে মানুষের লাইনও তত দীর্ঘ হয়েছে।

সকালে স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার দেওয়া হচ্ছে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট। সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় টিকিট বিক্রি। স্টেশনের ২৬টি কাউন্টারের মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত। প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই মানুষের দীর্ঘ লাইন। দিন যতো বাড়ছে টিকিট প্রত্যাশীদের সারিও তত দীর্ঘ হচ্ছে।

দীর্ঘ সারিতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট প্রত্যাশীরা

রংপুর এক্সপ্রেসের টিকিটের জন্য বুধবার ১টায় লাইনে দাঁড়ান ইমরান আলী। তিনি সকাল সাড়ে ৯টায় চারটি টিকিট পেয়েছেন। কাঙ্ক্ষিত টিকিট হাতে পেয়ে মুচকি হেসে কাউন্টার ত্যাগ করেন ইমরান। তিনি বলেন, ‘অনেক কষ্ট হয়েছে। টিকিট পেয়েছি। অন্তত বাড়ি যেতে পারবো।’

চট্টগ্রামের প্রভাতি এক্সপ্রেসের লাইনে দাঁড়ানো ছিলেন সুমাইয়া আক্তার। তিনি বলেন, ‘সকাল এসে দাঁড়িয়েছি। কিন্তু জানি না কখন যে টিকিট পাই। এখনও সামনে অনেক মানুষ।’

এদিকে ট্রেনে অগ্রিম টিকিট বিক্রির সার্বিক বিষয় নিয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে ২৬টি কাউন্টারে আগামী ১৮ আগস্টের টিকিট বিক্রি হয়েছে। মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করছেন। যাত্রীদের অনেক ভিড়। যদিও আমাদের সম্পদ সীমিত। এরমধ্যেই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিতে যেন কোনও ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে লক্ষ্যে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ রেলওয়ের নিজস্ব বাহিনী তৎপর রয়েছেন।’

প্রতিবারের মতো এবারও ১০ দিন আগে থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি। আগামীকাল ১০ আগস্ট শুক্রবার বিক্রি হবে ১৯ আগস্টের টিকিট। এভাবে আগামী ১১ ও ১২ আগস্ট পর্যায়ক্রমে টিকিট মিলবে ২০ এবং ২১ আগস্টের। এই দিনগুলোতে ঢাকা ও চট্রগ্রাম স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি হবে।

দীর্ঘ সারিতে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট প্রত্যাশীরা

জানা গেছে, বরাবরের মতো এবারও মোট টিকিটের ৬৫ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে কাউন্টার থেকে। বাকি ৩৫ শতাংশের ২৫ শতাংশ অনলাইন ও মোবাইলে। ৫ শতাংশ ভিআইপি ছাড়াও রেল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫ শতাংশ। একজন যাত্রীকে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৪টি টিকিট দেওয়া হবে এবং বিক্রিত টিকিট ফেরত নেওয়া হবে না।

এদিকে সুষ্ঠু ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্ত্তী।

এদিকে পবিত্র ঈদুল আজহার ৫ দিন আগে ১৮ আগস্ট থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেন সাপ্তাহিক বন্ধের দিনও চলাচল করবে।

এফএম/টিবি/১৮

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন