তিন সিটির নির্বাচনী প্রচারণা শেষ আজ

দরজায় কড়া নাড়ছে রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন। ৩০ জুলাই অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনের সব ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা শেষ হচ্ছে আজ শনিবার (২৮ জুলাই) মধ্যরাত থেকে।

এদিন রাত ১২টা থেকে সব ধরনের যান চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ জুলাই) মধ্যরাত থেকেই নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করেছেন বহিরাগতরা। শনিবার সকাল থেকে তিন সিটিতে টহল শুরু করেছেন ভ্রাম্যমাণ ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ ছাড়াও, আজ মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী এলাকায় কমিশনের অনুমোদিত স্টিকারবিহীন মোটরসাইকেল চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রধান সড়কে (হাইওয়ে) গাড়ি চলাচল করতে পারবে। এছাড়াও ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স ও ডাক বিভাগের গাড়ি এই নির্দেশনার বাইরে থাকবে। ভোটের দিন নির্বাচনী এলাকায় সাধারণ ছুটি থাকবে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে ইসি সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, সিলেট, বরিশাল ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজন করতে ইসির পক্ষ থে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও কারচুপি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহী সিটি নির্বাচনের পর বরিশাল সিটি করপোরেশেন (বিসিসি) নির্বাচনেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছেন।

নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাজশাহীতে ১০ জন, বরিশালে ১০ জন এবং সিলেট সিটিতে ৯ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন প্রতিটি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ ভোটকেন্দ্রে ২৪ জন এবং সাধারণ ভোটকেন্দ্রে (ঝুঁকিমুক্ত) ২২ জন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া, তিন সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে পুলিশ, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসারের সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে মোবাইল ফোর্স এবং প্রতিটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স রয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাবের টিম এবং বিজিবি সদস্যও মোতায়েন করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে ১৫ প্লাটুন, বরিশালে ১৫ প্লাটুন এবং সিলেটে ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের সদস্যরা ভোটের দুই দিন আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দিনসহ মোট চার দিন মাঠে থাকছে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব, পুলিশ ও কয়েক প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে মাঠে থাকবে। এ ছাড়াও গত ১০ জুলাই থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের জন্য একজন করে বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট তিন সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী মোট ১৯ জন। এ ছাড়া, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী ৩৮১ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জনসহ মোট ৫৪৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এফএম/টিবি১৮

কমেন্ট করে সাথেই থাকুন